Monday, 23 November 2015

কোমর ব্যথায় কী করি?


 কোমর ব্যথায় কী করি?

কাজের ভারে কোমর ব্যথা একটু-আধটু সবারই হয়। কারও কারও এই ব্যথা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। বয়স্কদের একটু বেশি হয়। সাধারণত দুটি কারণে কোমর ব্যথা হয়। ১. আঘাতজনিত কারণে ২. বয়সজনিত কারণে। এই রোগটি নির্ণয়ের জন্য আমরা প্রথমত এক্স-রে করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকি। দ্বিতীয়ত, সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য এমআরআই করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এই রোগটির চিকিৎসাপদ্ধতি দুটি। ১. কনজারভেটিভ বা রক্ষণশীল চিকিৎসাব্যবস্থা। ২. অপারেটিভ বা অপারেশন চিকিৎসাপদ্ধতি। এ রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তবে সঠিক চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নেওয়া এবং চিকিৎসা নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
আমাদের দেশে বা সমাজে বহুবিধ চিকিৎসক বিরাজমান। হাতুড়ে কবিরাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপপ্রচার মানুষকে বিভ্রান্ত করে অনেক সময়। এ বিষয়ে সবার সজাগ ও সচেতন থাকা উচিত।
কোমর ব্যথায় পরামর্শ:

১. ব্যথা না কমা পর্যন্ত শুয়ে থাকবেন।
২. মেরুদণ্ড বাঁকা করে কোনো কাজ করবেন না।
৩. ব্যথা কমে যাওয়ার পর যেকোনো এক কাত হয়ে শুয়ে থেকে উঠবেন।
৪. পিঁড়ি,মোড়া ইত্যাদিতে বসা নিষেধ।
৫. চেয়ার-টেবিলে বসে ভাত খেতে হবে।
৬. টিউবওয়েল চেপে পানি ওঠাবেন না।
৭. ফোমের বিছানায় (নরম বিছানায়) শোয়া নিষেধ।
৮. দাঁড়িয়ে রান্না ও কাজ করবেন।
৯. অনেকক্ষণ একই আসনে বসে থাকবে না। মাঝেমধ্যে দাঁড়িয়ে ঘোরাফেরা করবেন।
১০. চেয়ারে বসার সময় এক ঊরুর ওপর আরেক ঊরু দিয়ে আড়াআড়ি করে বসবেন।
১১. বসার সময় হাঁটার লেবেল মাজা/ কোমরের ওপর থাকবে।
১২. উপুড় হয়ে শোবেন না।
১৩. কোনো জিনিস তোলার সময় হাঁটু ভেঙে কোমর না বাঁকিয়ে সোজা হয়ে বসে তুলবেন।
১৪. ঝরনায় অথবা সোজা হয়ে বসে গোসল করবেন।
১৫. ব্যথা থাকা অবস্থায় কোনো প্রকার ব্যায়াম করবেন না।
১৬. শরীরের ওজন কমাতে হবে।
১৭. সিঁড়িতে ওঠার সময় ধীরে ধীরে উঠবেন, যাতে মেরুদণ্ড বাঁকা না হয়।
১৮. মালিশ নিষেধ।
১৯. টয়লেটে কমোড ব্যবহার করবেন।
২০. যাত্রার সময় সামনে আসনে বসবেন।
২১. কোনো ভারী জিনিস ওঠাবেন না।
২২. ডান বা বাম পাশ দিয়ে ফিরে বিছানা থেকে উঠবেন।



মাহবুব হোসেন:
প্রধান, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা

ব্যথা যখন ঘাড়ে


 ব্যথা যখন ঘাড়ে



সারা দিনে যা কিছু করা হয়, তাতে ঘাড়ের বেশ নড়াচড়া হয়। সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রেখে কাজ করলে অসুবিধা নেই। কিন্তু উল্টোটা হলেই শুরু হতে পারে ঘাড়ব্যথা। তখন ঘাড় নাড়াতেও অসুবিধা হতে পারে। হাতে ঝিঁঝিধরা বা অবশ লাগার মতো সমস্যাও হতে পারে। 

দীর্ঘ সময় ঘাড় অস্বাভাবিক বাঁকা করে কোনো কাজ করলে, যেমন: টেলিভিশন দেখা, কম্পিউটারে কাজ করা বা কাপড় কাচার মতো কাজ, এমনটা হতে পারে। আরেকটি রিকশা পেছন থেকে ধাক্কা দিলে সামনের রিকশার যাত্রীটির ঘাড়ে ব্যথার সূত্রপাত হতে পারে। বয়সজনিত কারণে শরীরের হাড় কিছুটা ক্ষয়ে যায়, এতেও ঘাড়ব্যথা হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের কারণেও কখনো কখনো এ রকম ব্যথা হয়। যক্ষ্মাসহ কিছু রোগের জীবাণুর সংক্রমণের ফলে ঘাড়ব্যথা হতে পারে। ঘাড়ে আঘাত লাগা আর স্রেফ দুশ্চিন্তার কারণেও এমন ব্যথা হয়ে থাকে। 

করণীয়: ঘাড়ে গরম সেঁক দিলে উপকার পাবেন। ব্যথা বেশি হলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। ঘাড় সামনে ঝুঁকিয়ে যাঁদের কাজ করতে হয়, তাঁরা কাজের সময় সারভাইকাল কলার পরে নিতে পারেন। এটি চারপাশ থেকে গলাকে আবৃত করে রাখে, তাই ঘাড়ে ব্যথা কম হবে। অসাবধান দেহভঙ্গির কারণে ব্যথা হলে এসবের পাশাপাশি সেই ভঙ্গিটিকে শুধরে নিন, এতেই ব্যথা কমে যাবে। রক্তচাপ ঠিক আছে কি না, তাও একবার পরীক্ষা করাতে হবে। এভাবে ব্যথা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

শোওয়ার সময় একটা নরম বালিশ ব্যবহার করুন। শোয়া বা শরীরকে বাঁকা অবস্থায় রেখে টেলিভিশন দেখবেন না। পড়ালেখা, কম্পিউটারে কাজ করা, গাড়ি চালানো বা অন্য যেকোনো কাজের সময়, এমনকি দাঁড়ানো অবস্থাতেও ঘাড় ঝুঁকিয়ে বা বাঁকিয়ে রাখবেন না। এসবের পাশাপাশি ঘাড়ের কিছু ব্যায়ামও করতে পারেন। কপালে একটি হাত শক্তভাবে রাখুন, হাতটিতে মাথা দিয়ে চাপ দিন। মাথার চারদিকেই হাত রেখে এভাবে ব্যায়াম করুন। প্রতি দিকে পাঁচবারের বেশিবার চাপ দেবেন না। দু-তিন বেলা এ ব্যায়াম করা যায়।

অধ্যাপক সোহেলী রহমান

বিভাগীয় প্রধান
ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

চোখের ক্লান্তি দূর করতে ৫ পরামর্শ


 চোখের ক্লান্তি দূর করতে ৫ পরামর্শ

একটানা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারের বা টিভির মনিটর বা যান্ত্রিক পর্দায় চোখ রাখলে, অপর্যাপ্ত অথবা অতি উজ্জ্বল আলোয় পড়াশোনা করলে অথবা লম্বা সময় গাড়ি চালালে চোখের পেশিগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। অনেকক্ষণ ধরে ছোট ছোট অক্ষর পড়লে বা চশমা ছাড়া বেশি সময় ধরে পড়ার কারণেও এ সমস্যা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যার নাম অ্যাসথেনোপিয়া। এর ফলে কপালের দুই পাশে বা মাথার পেছনে ও ঘাড়ে ব্যথা হয়। দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। চোখে শুষ্কতার অনুভবও হয়।

রাতে গোড়ালিতে ব্যথা


 রাতে গোড়ালিতে ব্যথা?



সারা দিনের ক্লান্তির পর রাতে গোড়ালি ব্যথা করলে কার ভালো লাগে? চিনচিনে এই ব্যথা বা অস্বস্তির কারণে অনেক সময় ভালো ঘুম হতে চায় না। সকালে পা মেঝেতে ফেলতে গেলেও ব্যথা লাগে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ রকম গোড়ালি ব্যথার কারণ পায়ের পাতার নিচে প্রদাহ বা প্লান্টার ফ্যাসাইটিস। 

মধ্যবয়সীদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। সারা দিন হাঁটাহাঁটির মধ্যে এই ব্যথা বেশি অনুভূত হয় না, বাড়ি ফিরলেই শুরু হয়। এই যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সহজ কয়েকটি ব্যায়াম করতে পারেন। রাতে শোবার আগে কয়েক মিনিটের এই ব্যায়াম সেরে নিলেই পাওয়া যাবে আরাম। 
১. একটা চেয়ারে বসে দুই হাত দিয়ে পায়ের পাতার সামনের অংশ ধরুন। এবার নিজের দিকে অর্থাৎ ওপরের দিকে পায়ের পাতাটিকে টানুন। আরও সহজ হলো, একটা তোয়ালে রোল করে পায়ের পাতা তার মধ্য দিয়ে রোলের দুই মাথা হাত দিয়ে নিজের দিকে টানতে থাকুন। দুই পায়ে ৩০ সেকেন্ড এই ব্যায়াম করুন।
২. দেয়ালের দিক মুখ করে দাঁড়ান। বাঁ পা সোজা রাখুন কিন্তু ডান নিতম্ব এমনভাবে সামনে দেয়ালের দিকে বাঁকা করুন, যাতে পায়ের মাংসপেশিতে টান পড়ে। ৩০ সেকেন্ড এই চর্চা করুন। এবার পা বদলে অন্য পায়ে একই ব্যায়াম করুন। দুই থেকে তিনবার করতে হবে। 
৩. মেঝেতে একটা তোয়ালে বা ন্যাকড়া ফেলে দিন। এবার ওটার ওপর পা দিয়ে সামনের আঙুলগুলো দিয়ে তোয়ালেটাকে আঁকড়ে ধরুন এবং নিজের দিকে আনতে চেষ্টা করুন। অন্য পা দিয়েও করুন ব্যায়ামটা। 
৪. ব্যায়ামের পর একটা স্বস্তিকর আরামদায়ক ঘুমের জন্য খানিকক্ষণ পায়ের পাতায় মালিশ (ফুট ম্যাসাজ) করে নিন। সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো, ছোট্ট একটা প্লাস্টিকের বল মেঝেতে রেখে তার ওপর পায়ের পাতা দিয়ে চেপে ধরে নাড়ানো। কয়েক মিনিট এই ম্যাসাজটা করলে সারা রাত চমৎকার কাটবে।



ডা. আ ফ ম হেলাল উদ্দিন
মেডিসিন বিভাগ
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

ভালো থাকতে চায়লে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস


 ভালো থাকতে চায়লে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। এ তথ্য আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের। এ রোগের প্রভাবে মানুষের হৃদ্যন্ত্র, কিডনি, রক্তনালি, চোখ,¯স্নায়ুসহ প্রায় সব অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ টাইপ-টু ডায়াবেটিসই কিন্তু প্রতিরোধ করা যায়।
আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায়’। এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ:

  •  প্রথমেই জেনে নিই, সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর খাবার কী। প্রতিদিনের খাবারে প্রতিটি পুষ্টি উপাদান—শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সঠিক মাত্রায় উপস্থিত থাকলে তবেই তাকে সুষম খাবার বলে। তার পরিমাণ বা পরিমাপ নির্ভর করে আপনার উচ্চতা, ওজন ও কাজ বা শারীরিক পরিশ্রমের ধরনের ওপর।
  •  অতিরিক্ত ওজন, মেদ-ভুঁড়ি ও কায়িক শ্রমের অভাব—এগুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস সঠিক হওয়া জরুরি। আপনার ওজন সঠিক না থাকলে তা ঠিক করার জন্য প্রতিদিনের খাবারে ক্যালরি গ্রহণের পরিমাপ নির্ধারণ করতে হবে।
  •  চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার, শরবত, মিষ্টি, গুড়, কোমল পানীয় ইত্যাদি বর্জন করুন। কারণ, এগুলো সহজ শর্করা এবং সহজেই শরীরে শোষিত হয়। জটিল শর্করা ও আঁশযুক্ত খাবার বেছে নিন। যেমন: সেদ্ধ চাল, আটা, ছাতু, যব বা ভুট্টার তৈরি খাবার ইত্যাদি।
  • সম্পৃক্ত চর্বি ও চর্বিযুক্ত খাবার, বেকারি, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদি খেলে ওজন বাড়ে। এগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
  • একসঙ্গে বেশি না খেয়ে দিনে-রাতে পাঁচ থেকে ছয়বার অল্প অল্প করে খান। সকালের নাশতা অবশ্যই নিয়মিত গ্রহণ করবেন।
  •  প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। বাইরে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করতে না পারলে বাড়িতেই ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন একই সময় হাঁটা বা শরীরচর্চা করা ভালো।
  •  কেনা খাবার খাওয়ার সময় প্যাকেটের গায়ে ক্যালরি, শর্করা ও চর্বির পরিমাণ ইত্যাদি আপনার উপযোগী কি না দেখে নিন।
অধ্যাপক মো. ফারুক পাঠান
হরমোন ও ডায়াবেটিস বিভাগ
বারডেম হাসপাতাল

একটানা ইন্টারনেট ব্রাউজিং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর


 একটানা ইন্টারনেট ব্রাউজিং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর


মাঝেমধ্যেই কিছু রোগী আসেন চেম্বারে, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। সমস্যা ব্যথায় ঘাড় ঘোরাতে পারে না। ব্যথা পিঠের ওপরের অংশেও। কারও কারও হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে হাত ঝিনঝিন বা অবশ ভাব অনুভূত হয়। হাতে কম শক্তি পায়। কোমরে ব্যথার উপসর্গ নিয়ে যারা আসে, তাদের বেশির ভাগই বলে থাকে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর উঠতে গেলে কোমরের মাংসপেশিতে টান লাগে। কিছু রোগীর বক্তব্য এমন, দীর্ঘক্ষণ উপুড় হয়ে শুয়ে ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলে ফেসবুক বা ইন্টারনেট ব্রাউজিং করছিলেন। ওঠার সময় বিছানা থেকে উঠতে কষ্ট হয়, তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। আসুন জেনে নিই এ সমস্যাগুলোর কারণ।

সমস্যার মূল কারণ একটু অসচেতনতা, অসতর্কতা বা অসাবধানতা। যেমন: ধরুন  জেরিনের (ছদ্মনাম) কথাই। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছে। এখন ক্লাসে যেতে হয় না। হাতে অফুরন্ত সময়। তাই ইন্টারনেটই সঙ্গী। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে সামনে বই রেখে পড়াশোনা করে। এতে জেরিন কোমর ব্যথায় আক্রান্ত। কিন্তু এ ব্যথার জন্য কোনো প্যাথলজিক্যাল কারণ নেই। শুধু অসচেতনতা। এ কারণে জেরিনের কোমরের মাংসপেশি স্ফিত বা শক্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। 
পরামর্শ : সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যা করতে হবে: একটানা আধা ঘণ্টার বেশি সময় বসে কিংবা শুয়ে কম্পিউটিং বা ব্রাউজ করবেন না। কাজের মধ্যে ১০-১৫ মিনিট করে বিশ্রাম নিন। এ সময় হাঁটাহাঁটি করুন। তারপর আবার বসুন। দীর্ঘক্ষণ উপুড় হয়ে শুয়ে বই পড়বেন না। ল্যাপটপও চালাবেন না। কম্পিউটিংয়ের সময় কম্পিউটারের মনিটর চোখের লেভেলে রাখুন, যাতে আপনাকে সামনের দিকে ঝুঁকতে না হয়। বসার চেয়ার ও টেবিলের উচ্চতা এমন হতে হবে, যেন আপনি সোজা হয়ে কোমরের পেছনে সাপোর্ট অবস্থায় বসে কম্পিউটার চালাতে পারেন। নিয়মিত ঘাড় ও কোমরের মাংসপেশির শক্তি বজায় রাখার জন্য বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করুন। সর্বোপরি একটু নিয়ম মেনে চলুন, সুস্থ ও ব্যথামুক্ত জীবনযাপন করুন। 
ডা. এম ইয়াছিন আলী
লেখক: চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমণ্ডি, ঢাকা

উচ্চ রক্তচাপ: কী করবেন?


 উচ্চ রক্তচাপ: কী করবেন?


উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি জীবনাচরণে পরিবর্তন আনাটাও খুব জরুরি। সঠিক জীবনধারা মেনে চললে অনেক সময় ওষুধের মাত্রা বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না। রক্তচাপ নিজে থেকেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। আসুন জেনে নিই উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা কীভাবে নিজের জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে পারেন:

*যাঁরা ওজনাধিক্য বা স্থূলতায় ভুগছেন, তাঁদের ওজন মাত্র এক কেজি কমাতে পারলে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপদুটোই এক মিলিমিটার পারদ কমে যায়। আর চার কেজির মতো ওজন কমাতে পারলে রক্তচাপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ করাটা জরুরি।


*উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য প্রতিদিন লবণ খাওয়ার পরিমাণ আধা চা-চামচের বেশি হওয়া ঠিক নয়। এটা রান্নায় লবণের পরিমাপসহ ধরা হচ্ছে। তাই অতিরিক্ত বা কাঁচা লবণ তো খাওয়া যাবেই না, বাদ দিতে হবে আনুষঙ্গিক লবণ ও লবণাক্ত খাবারও। যেমন: সালাদে বা কাঁচা ফলের সঙ্গে লবণ, বিট লবণ, আচার, চানাচুর, সয়াসস, টেস্টিংসল্ট, শুঁটকি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদি।

*ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জনীয়। এ ছাড়া গুল, জর্দা, তামাক, মদ্যপান ইত্যাদিও পরিহার করুন।

*চর্বিযুক্ত খাবার, যেমন: গরু ও খাসির মাংস, মগজ, ডিমের কুসুম, চিংড়ি, ভাজা-পোড়া ইত্যাদি খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। ফলমূল, শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার বেছে নিন।

*সপ্তাহের প্রায় সব দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে বা ব্যায়াম করতে হবে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের প্রভাবে রক্তচাপ বাড়ে। নিয়মিত বিশ্রাম, ভালো ঘুম ও প্রতিদিন একই রুটিন মেনে চলার অভ্যাস করুন।

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

প্যারাসিটামল খাওয়ার আগে সতর্ক হোন


 প্যারাসিটামল খাওয়ার আগে সতর্ক হোন


প্যারাসিটামল একটি বহুল পরিচিত ওষুধ। জ্বর বা ব্যথায় আক্রান্ত হলে এই ওষুধ খেতে কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেন না। বলা যায়, এটি একটি ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধ, মানে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যায়। সম্প্রতি সরকারি একটি নির্দেশনা অনেকের মনেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ২৪৪তমসভায় প্যারাসিটামল ৫০০ মিলিগ্রাম ও ডি-এল মেথিওনিন ১০০ মিলিগ্রামের যৌগ ওষুধটির অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। এতে অনেকেই ধরে নিয়েছেন যে প্যারাসিটামল বুঝি নিষিদ্ধ বা ব্যান্ড হয়ে গেছে।

প্যারাসিটামল কী?: প্যারাসিটামল হলো প্রদাহবিরোধী রাসায়নিক পদার্থ। নাম এসিটামিনোফেন। এটি জ্বর ও ব্যথা-বেদনা কমাতে সাহায্য করে। রোগ নিরাময়ে প্যারাসিটামলের কার্যকারিতা বাড়াতে বা ত্বরান্বিত করতে এর সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়, যেমন ক্যাফেইন, ডি-এল মেথিওনিন ইত্যাদি। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ডি-এল মেথিওনিন ব্যবহার করলে তা উপকারের তুলনায় ক্ষতিই বেশি করে।
কেন বাতিল করা হলো?: প্যারাসিটামল ও ডি-এল মেথিওনিনের মিশ্রণে মেথিওনিন থাকে। এটি সেবন করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, যকৃতের সমস্যা, মস্তিষ্কের ক্ষতি ও রক্তের অম্লতা বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তা ছাড়া ১২ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর জন্য মেথিওনিনযুক্ত প্যারাসিটামল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ কারণেই প্যারাসিটামল ও ডি-এল মেথিওনিনের মিশ্রণে তৈরি ওষুধটির উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে শুধু প্যারাসিটামল কখনোই বাতিল করা হয়নি।
সতর্কতা: যেকোনো ওষুধ সেবন করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ কেনার আগে অবশ্যই ওষুধের গায়ে লেখা পড়ে নিন। প্রত্যেক ওষুধের প্যাকেটে এর উপকরণের নাম ও পরিমাণ লেখা থাকে। প্যারাসিটামল ও ডি-এল মেথিওনিনের মিশ্রণ বা কম্বিনেশনের ওষুধ এড়িয়ে চলুন। 
অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ
ডিন, মেডিসিন অনুষদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

Bootable Windows 7 DVD– কপি করা ফাইল থেকে Bootable Windows 7 DVD তৈরি করুন

 Bootable Windows 7 DVD– কপি করা ফাইল থেকে Bootable Windows 7 DVD তৈরি করুন



সাধারণত Bootable CD/DVD পিসিতে বা অন্য কোথাও কপি করলে এবং তা পরে ডাটা সিডি হিসেব রাইট ঐ CD/DVD টি আর Boot হয় না তার কারণ -সাধারণত উপায়ে কপি করলে সিডির সমস্ত ফাইল কপি হলেও Boot হওয়ার জন্য CD/DVD র সাথে যে একটা Bootable Image থাকে তা কপি হয় না Bootable Image টির সাইজ মাত্র কয়েক KB এবং তা সিডিতে হিডেন অবস্থায় থাকে যা দেখা যায় না এটি শুধুমাত্র মাদার বোর্ডের বায়োস ডিটেক্ট করতে পারে এবং তা থেকে পিসি বুট করাতে পারেBootable Image ছাড়া কোন CD/DVD থেকে পিসি বুট করানো যায় না অনেকে Windows XP, Windows Vista, Windows 7 (সম্ভবত Windows 8 ও হবে) কে CD/DVD থেকে পিসিতে কপি করে তারপর CD/DVD তে রাইট করে এতে CD/DVD টি আর বুট হয় না

Create System Repair Disc – Windows7 এর System Repair Disc তৈরি ও ব্যবহার


 Create System Repair Disc – Windows7 এর System Repair Disc তৈরি ও ব্যবহার


System Repair Disc হলো একটি Bootable Disc যা কোন Operating System এর Booting সমস্যা সমাধান করার কাজে ব্যবহৃত হয়। Windows এর প্রতিটি ভার্সনেই এই Disc ব্যবহার করা যায়। তবে প্রতিটি ভার্সনের জন্য সেই ভার্সনের Disc দরকার হয়। Software গত সমস্যার কারণে কখনো পিসি বুট না করলে System Repair Disc এর মাধ্যমে তা সমাধান করা যায়। বর্তমানে System Reserved Partition এর মাধ্যমে Windows7 এর Booting System কে খুবই শক্তিশালী করা হয়েছে যা Windows7 পূর্ববর্তী ভার্সনগুলোতে ছিল না। তবে সেটি ব্যবহার না করার ফলে বা অন্য কোন কারণে কোন সময় Booting সমস্যা দেখা দিলে System Repair Disc ই দিতে পারে সমস্যার সমাধান।

Windows7 এর System Repair Disc এ বেশ কিছু টুল যুক্ত করা হয়েছে। যেমন Startup Repair, System Restore, System Image Recovery, Windows Memory Diagnostic Tool, Command Prompt প্রভৃতি। নানাবিধ প্রয়োজনে এটুলগুলো System Repair Disc এর মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। এগুলোর কাজ কি একটু দেখে নিই।
Startup Repair: এর মাধ্যমে Booting সমস্যা সমাধান করা যায়। অর্থাৎ Booting ফাইল মিসিং বা Corruption জনিত কারণে PC Boot না হলে এ অপশনটির মাধ্যমে তা সমাধান করা যায়। এ জন্য Start up Repair নিয়ে আমার লেখাটা দেখতে পারেন।